এই দিন

মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ৪ ১৪২৭   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

৪৭২

ঘরণীর অতৃপ্ত বাসনা: পর্ব-১

প্রভাতি টিভি ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২০  

এস এম শুভজিত সান্যাল বীরভুম জেলার বাতাস পুর রেল স্টেশনে বদলী হয়ে এসেছেধু ধু মাঠের মধ্যে রেল কোয়ার্টারবিদ্যুৎ আছে, ভোল্টেজ কম থাকায় রাতে প্রদীপের মতো আলো জ্বলে দুরে অজ গ্রাম চারদিন হল বাতাস পুর স্টেশনে কাজে যোগ দিয়েছে খালাসী পাশোয়ান ওর কোয়ার্টারে আসবাব ঢুকানোর সময় বলেছিল -" ছোটবাবু এই কোয়ার্টারের দোষ আছেআওরত রুহু ঘুরে বেড়ায়" কথার মানে শুভজিত বুঝতে পারেনিকয়েকদিন থাকার পর বেলুড়ের শ্বশুর বাড়ী থেকে নববিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে আসবে কোয়ার্টারে দুটি ঘর বারান্দা, উঠোন সংলগ্ন রান্না ঘর বাথরুম পায়খানা আছে তিনদিন লাস্ট নাইট অর্থাৎ রাত বারোটা থেকে ডিউটি করেছেআজ দিনে ডিউটি করে শুভজিত প্রথম রাতে ভিতরের ঘরে পালঙ্কে শুয়ে ঘুমোচ্ছিল লাইট নিভিয়ে অন্ধকারে করে শোয়বন্ধ দরজার বাইরে রান্নাঘরে শব্দ হচ্ছে হয়ত বিড়াল এসেছে কিন্তু একটানা হাতা খুন্তি নাড়ার আওয়াজে রাত বারোটায় ওর ঘুম ভাঙল মনে হচ্ছে কেউ যেন রান্না ঘরে কাজ করছেবাথরুমে জল ফেলার শব্দ শুনে ভয়ে আড়ষ্ট হল -"বোস এখনই খাবার আনছি"

 

অস্পষ্ট মহিলার কন্ঠ কানে যেতেই শুভজিত উঠে কম্পমান হাতে দেওয়ালের সুইচ টিপে আলো জ্বালল ভুতে বিশ্বাস করে নাকিন্তু একা ঘরে কৃষ্ঞপক্ষের রাতে এরকম শিহরণ জাগানো অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি দরজার ছিটকিনি খুলে বাইরের রান্না ঘর বাথরুমে ঢুকে কোন মহিলাকে দেখতে পেল না রান্না ঘরে ওভেন গ্যাসের সিলিন্ডার এনেছে এখন দুপুরে রাতের রান্না খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে পাশের কোয়ার্টারে অবিবাহিত এস এম হালদারের রান্না ঘরেপোর্র্টার রাধে শ্যাম পাশোয়ান রান্না করে দেয়: স্ত্রীকে আনলে রান্নাঘর ব্যবহার করবে ঘরের কয়েকটা বাসন জায়গা মতোই আছে বাসনের শব্দ কে করল? উঠোনের পাঁচিলের বাইরে নিম গাছের ডালে একটা হুতোম প্যাচা বসে অন্ধকারে উজ্বল ডাগর চোখে চেয়ে আছেদরজা বন্ধ করে শুভজিত বিছানায় শোয় বাইরে রান্না ঘরে আবার হাড়ি গ্লাস বাটি রাখার শব্দ শুরু হল ভাবে অশরীরী কেউ থাকলে সেতো রান্না ঘরে ঘরে না এলেই হলওর কাণে এল ধপাস শব্দে উঠোন কেউ যেন পড়ে গেল

 

 -" মাগো" বলে নারী কন্ঠের আর্তনাদ শুনে ভয় কাটাতে দুকানে বালিশ চেপে ধরল কাণ বন্ধ রেখে ভয় দুঃশ্চিন্তার প্রহর কাটাল শেষ রাতে আওয়াজ বন্ধ হলে ঘুমাল সকালে শুভজিত পাশের কোয়ার্টারের অবিবাহিত জুনিয়ার এস এম হালদারবাবুকে বলল-" হালদার আমার কোয়র্টারের রান্না ঘর উঠোন থেকে রাতে নানারকম শব্দ হচ্ছেমহিলা কন্ঠের আর্তনাদ শুনলামঘরটাতে ভুত পেতনী আছে নাকি?" উদ্বিগ্ন হয়ে হালদার বলল-" তোমাকে আগে বলা হয়নি তিন বছর আগে কোয়ার্টারে বোসদা বউ নিয়ে উঠেছিল বোসদার স্ত্রী যখন নয় মাসের অন্তসত্বা ছিল তখন বাথরুমে স্নান করার সময় পা পিছলে পড়ে যায়; বোসদা স্ত্রীকে সিউরি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল; মর্মান্তিক ঘটনায় স্ত্রী গর্ভের সন্তান দুজনাই মারা গেছে বোসদা ভালবেসে বৌদিকে বিয়ে করেছিল ওরা ছিল মেড ফর ইচ আদার একবছর শোকে দুঃখে স্ত্রীর স্মৃতি নিয়ে কোয়ার্টারে ছিল পরে বোসদা বদলী হয়ে চলে গেছেতারপর থেকে রাতে কোয়ার্টারে কেউ থাকতে পারে না"--" শুনেছি প্রণব বোস এখন ভেদিয়ায় পোস্টিং নিয়ে আছে কয়েকদিন আগে হাওড়া ডি এস অফিসে বোসদার সাথে দেখা হয়েছিল"--' হ্যাঁ, বোসদা মনের দুঃখে বদলী নিয়ে ভেদিয়ায় চলে গেছে তবে বছর ঘুরতেই আর একটা বিয়ে করেছেশুনেছি ডিভোর্সী মহিলাকে রেজিস্ট্রী বিয়ে করেছে

 

এস এম কোয়ার্টার এখানেতো দুটো স্টেশন মাস্টার পরিবার নিয়ে আছেতুমি কেবিনম্যানের কোয়ার্টারে থাকো"-সাহস সঞ্চয় করে শুভজিত বলল-" না আমি এখানেই থাকব" স্ত্রী শহরের মেয়ে মোনালিসাকে অশরীরীর কথা বলা যাবে নাতাহলে আসবেই না পরের রাতেও বাসনের আওয়াজ এবং রান্না ঘর উঠোনময় পদশব্দ শুনতে পেল তবে কোন মহিলা কন্ঠ শোনেনিহয়তো ছায়া ঘরণী নিজেকে প্রকাশ করেনি দুই দিন পরে শুভজিত স্ত্রী মোনালিসাকে বাতাসপুরে নিয়ে এসেছে ইচ্ছা করে ফার্স্ট নাইট অর্থাৎ বিকাল চারটে থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত ডিউটি নিয়েছেরাতে সাথে থাকলে মোনালিসা ছায়া ঘরণীর শব্দ শুনে ভয় পাবে নারাত বারোটায় ঘরে এসে দেখে মোনালিসা কোয়ার্টারের বারান্দায় বসে আছে--" কিগো তুমি না ঘুমিয়ে বারান্দায় কেন?--"

 

মোনালিসা আতঙ্কে শুভজিতকে জড়িয়ে বলল-" রান্না ঘরে কে যেন আছে বন্ধ ঘরে রান্না করার শব্দ পাচ্ছি আমার ভয় করছে এই কোয়ার্টারে আমি তোমাকে ছাড়া একা রাতে থাকতে পারব না"