এই দিন

মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ৪ ১৪২৭   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

১৫৫

বিশ্বে রেকর্ড পরিমাণে কমছে তেলের উৎপাদন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২০  

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে লকডাউন পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের চাহিদা ও দাম কমে গেছে। ফলে বিশ্বের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং রাশিয়াসহ এর সহযোগী দেশগুলো উৎপাদন ১০ শতাংশ কমিয়ে আনার বিষয়ে একমত হয়েছে। খবর বিবিসির।

এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী তেলের উৎপাদন কমানোর এটাই সর্বোচ্চ রেকর্ড। আগামী ১ মে থেকে এটি কার্যকর হবে। রোববারে এক ভিডিও কনফারেন্সে দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার পর এ বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনায় ওপেক প্লাস অর্থাৎ ওপেক ও সহযোগী দেশসমূহ এই চুক্তির পরিকল্পনার কথা জানায়। কিন্তু সেসময় মেক্সিকো এতে ভেটো দেয়।

নতুন চুক্তির ব্যাপারে ওপেক এখনো ঘোষণা দেয়নি। কিন্তু সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অনেকেই আলাদা আলাদা করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এখন কেবল এতটুকুই নিশ্চিত করা করা হয়েছে যে, ওপেক ও এর সহযোগী দেশগুলো তেলের উৎপাদন দিনে ৯৭ লাখ ব্যারেল কমিয়ে দেবে।

এদিকে, সোমবার এশিয়ার বাজারে তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি এক ডলার করে বেড়েছে। হাল্কা অপরিশোধিত তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি প্রায় ৩৩ মার্কিন ডলারে উঠেছে। আর সেই সঙ্গে মার্কিন বাজারে ব্যারেল প্রতি ২৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে দাম।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কুয়েতের জ্বালানি মন্ত্রী ড. খালেদ আলী মোহাম্মেদ আল ফাদহেল টুইট করে নতুন চুক্তির বিষয়টি জানিয়েছেন। অন্যদিকে সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস রোববার ভিন্ন ভিন্নভাবে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

oil-1

আল ফাদহেলে এক টুইট বার্তায় বলেন, আল্লাহর অসীম রহমতে শুক্রবার রাত থেকে চলা আলোচনার পর আমরা এখন এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছি। আগামী মে মাসের প্রথম দিন থেকে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো দৈনিক প্রায় এক কোটি ব্যারেল কম তেল উৎপাদন করবে।

করোনাভাইরাস মহামারি আকারে দেখা দেওয়ায় সারাবিশ্বে ৩শ কোটির বেশি মানুষ লকডাউনে থাকায় গত কয়েক মাসে জ্বালানি তেলের চাহিদা এক তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে।

এর আগে মার্চ মাসে তেলের দাম গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নামে। এর মূল কারণ ছিল সৌদি আরব এবং রাশিয়ার মত-ভিন্নতার কারণে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো উৎপাদন কমানোর ব্যাপারে একমত হতে পারছিল না।

কিন্তু এপ্রিলের ২ তারিখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, মত-ভিন্নতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এদিকে, ওপেক প্লাসভুক্ত দেশের এই চুক্তির বাইরেও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল এবং নরওয়েও মে মাস থেকে তেলের উৎপাদন পাঁচ শতাংশ হ্রাস করবে বলে জানা গেছে।

তবে চুক্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দৈনিক উৎপাদন কমানো হবে প্রতিদিন ৮০ লাখ ব্যারেল করে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কমানো হবে ৬০ লাখ ব্যারেল করে।