এই দিন

মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ৪ ১৪২৭   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

১১৯

রোজায় অচেনা চকবাজার

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২০  

 

‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোংগা ভইরা লইয়া যায়’। রমজান মানেই চকবাজারের ইফতারি। শুধু দেশ নয়, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খানদানি ইফতারি সামগ্রীর সুনাম দেশের বাইরেও রয়েছে। চকবাজারকে অনেকে ইফতারির বাজার নামেই জানেন। কিন্তু দেশে করোনার মধ্যে চকবাজারের সেই চিরচেনা রূপ আর নেই। দেখে অনেকটা অচেনা বলে মনে হয়।

আজ শনিবার ১ম রমজানের বিকেলে সেখানে দেখা যায়, গলিতে গলিতে নেই বাহারি ইফতারের মেলা। অন্য বারের মতো আস্ত খাসির রোস্ট, আস্ত মুরগির ফ্রাই, জালি কাবাব, সুতি কাবাব, টিকা কাবাব, শাহী কাবাব, কবুতরের রোস্ট, কোয়েলের রোস্ট, ডিম চপ, ডিম কোপ্তা, সাসলিক, ভেজিটেবল রোল, চিকেন রোল, দইবড়া, হালিম, লাচ্ছি, পনির, পেস্তা বাদামের শরবত, লাবাং, মাঠা, কিমা পরোটা, ছোলা, মুড়ি, ঘুগনি, সমুচা, বেগুনি, আলুর চপ, পিঁয়াজু, জিলাপিসহ নানা পদের পসরা সাজানো খাবার নেই। বিক্রেতাদের হাঁকডাক নেই, তেমনি নেই ক্রেতাদের ভিড়। এ যেন এক অচেনা চকবাজার। চারদিকে সুনসান। এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখেননি বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ পর্যন্ত চবাজারের ইফতার বাজার কখনো বন্ধ হয়নি। চকবাজারের ইফতার সবার কাছে প্রিয়। একই বাজারে এত ইফতারের আইটেম আর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না এটাই এর বিশেষত্ব। তাই নগরবাসীর অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ইফতার কিনতে চকবাজারে ছুটে আসেন। বিশেষ করে রমজানের প্রথম দিনে মানুষের ভিড়ে পা রাখাই দায় হয়ে পড়ে চকবাজারে।

কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে একমাস ধরে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি পণ্যের দোকান ব্যতিত বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন, সরকারি অফিস-আদালত। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তাই এবার চকবাজারেও বসেনি ইফতারি বাজার।