এই দিন

রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২০   কার্তিক ১৬ ১৪২৭   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

৪৩

স্বামী মারছেন স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে, রক্ষা পাচ্ছে না সন্তানের

প্রভাতি টিভি ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২০  

ব্যক্তিগত নৈতিক স্খলন থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় একে অন্যের হাতে খুন হচ্ছেন বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী এমনকি সন্তানও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস এমন অপরাধের পেছনে সামাজিক-আর্থিক টানাপড়েনের সঙ্গে রয়েছে হতাশা, পরকীয়া আর আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো কারণ। সঙ্গে করোনার মতো অস্থির পরিস্থিতিতে বাড়ছে হত্যার মতো ঘটনা।

সভ্য মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় আপন ঘর। আর পৃথিবীতে সবচেয়ে আপন পরিবারের সদস্য। সেই ঘরেই স্বামীর হাতে স্ত্রী এবং স্ত্রীর হাতে স্বামী, সন্তানের হাতে বাবা-মা, আবার বাবা-মায়ের হাতে সন্তান খুনের মত ঘটনা ঘটছে।

সরকারি হিসেব বলছে, বছরে দেশে মোট হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ হচ্ছে পারিবারিক। একটি ঘটনার নৃশংসতা ছাড়িয়েছে আরেকটিকে।

পারিবারিক এসব হত্যাকাণ্ডের বড় অংশের শিকার নারী ও শিশু। একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার হিসেবে, চলতি বছরের ৮ মাসে দেশে ১৬৩ জন নারী স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন। সূত্র: আইন সহায়তা কেন্দ্র-আসক ফাউন্ডেশন

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতেই ঘটে নৃশংস এক ঘটনা। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স-বিটিসিএল'এ কর্মরত রাকিব আহমেদ নামের এক প্রকৌশলী নৃশংসভাবে খুন করে নিজের দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে। খুনের পর ভিক্ষুক ও পাগলের বেশে দুই মাস পালিয়ে বেড়ায়। ৮ এপ্রিল রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

রাকিব আহমেদ বলেন, 'একটি হুতুড়ি নিয়ে আমার স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে বসি।'

জুয়ায় আসক্ত রাকিবের মতো এমন মানসিকতায় পৌঁছানোর কারণ একটি নয়। নানান পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে যোগ হয়েছে সাম্প্রতিক করোনার মতো অস্থির সময়ও।

যদিও, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে আইন হয়েছে ১০ বছর আগে। ভুক্তভোগী তো দূরের কথা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোরও নেই এ ব্যাপারে সংবেদনশীলতা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ উপ-কমিশনার মসিউর রহমান বলেন, 'ডমেস্টিক ভায়োলেন্স এর জন্য সামাজিক একটা অস্থিরতা কাজ করে।'

আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, 'এই করোনাকালে অপরাধ বেড়েছে।'