প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৩:১৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, তার দেশ কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়াবে। মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের মধ্যেই তিনি এমন ঘোষণা দিলেন।
সোমবার (২ মার্চ) উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের ইল লঁগ সামরিক ঘাঁটিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। ‘ইল লঁগ’ ঘাঁটিটি ফ্রান্সের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনগুলোর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
ম্যাক্রোঁ জানান, বর্তমানে ফ্রান্সের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ৩০০–এর কম। তিনি এ সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও কতটি নতুন ওয়ারহেড যোগ করা হবে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি। ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম ফ্রান্স তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভাষণে ম্যাক্রোঁ ‘অ্যাডভান্সড ডিটারেন্স’ বা উন্নত প্রতিরোধ ব্যবস্থার ধারণাটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এটি হবে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে একটি গভীর ও কাঠামোগত পারমাণবিক নিরাপত্তা সম্পর্ক, যা ন্যাটোর বর্তমান ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
ম্যাক্রোঁ জানান, জার্মানি, ব্রিটেন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, গ্রিস, সুইডেন এবং ডেনমার্ক—এই আটটি মিত্র দেশে ফ্রান্সের ‘কৌশলগত বিমান বাহিনী’ মোতায়েন করা হবে।
অতীতে ফ্রান্স তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রকাশ করলেও, এখন থেকে আর সেই তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো ঘোষণা করেছেন।
ম্যাক্রোঁর এই ভাষণটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই নির্ধারিত ছিল। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপের চলমান উত্তেজনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার আগ্রাসনের ভীতি থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ দূর করতেই এই পরিকল্পনা।
ভাষণে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘একাধিক হুমকির মুখে আমাদের অবশ্যই পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে সমগ্র ইউরোপ মহাদেশের গভীরে এই কৌশল নিয়ে ভাবতে হবে। স্বাধীন থাকতে হলে, অন্যদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করতে হবে।’
এদিকে আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্রান্সে মেরিন লে পেনের নেতৃত্বাধীন উগ্র-ডানপন্থী ‘ন্যাশনাল র্যালি’ দল বিজয়ী হতে পারে—এমন একটি আশঙ্কার মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। মিত্র দেশগুলো মনে করছে, ডানপন্থীদের উত্থান ইউরোপীয় সহযোগিতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের অস্ত্রাগারের আধুনিকায়ন এখন অপরিহার্য।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিত্র দেশগুলোতে ফরাসি বিমান বাহিনীর এই বিস্তৃতি শত্রুপক্ষের সামরিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে এবং ইউরোপের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন